Header Ads Widget

Responsive Advertisement

তরুণদের ঘরছাড়ার প্রবণতা জঙ্গি তৎপরতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে

আবারও উগ্রবাদে জড়িয়ে তরুণদের ঘরছাড়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। সোমবার রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব জানিয়েছে, উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিভিন্ন জেলা থেকে অন্তত ৫৫ জন তরুণ নিখোঁজ হয়েছে। তাদের মধ্যে ৩৮ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে।


 কথিত হিজরতের নামে ঘর ছেড়েছে তারা। যারা নিরুদ্দেশ হয়েছে, তাদের মধ্যে প্রায় সবাই নতুন জঙ্গি সংগঠন ‘জামাতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারক্বীয়া’য় যোগ দিয়েছে। ইতোমধ্যে সংগঠনটির সমন্বয়কসহ পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। তাদের কাছ থেকে উগ্রবাদে উদ্বুদ্ধ করার কিছু পুস্তিকা ও লিফলেটও উদ্ধার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরবচ্ছিন্ন অভিযানে দেশে জঙ্গি তৎপরতা স্তিমিত হয়ে এলেও তা যে পুরোপুরি বন্ধ হয়নি, এসব তথ্য তারই প্রমাণ। এটি একটি উদ্বেগের বিষয় অবশ্যই।

বলার অপেক্ষা রাখে না, যে কোনো উগ্রপন্থাই খারাপ। প্রতিটি ধর্মের অন্তর্নিহিত মর্মবাণী হচ্ছে শান্তি। অশান্তি, নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা শুধু ধর্মীয় নয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকেও পরিত্যজ্য। দেখা যাচ্ছে, উগ্রপন্থিরা পরিত্যজ্য একটি বিষয়কে উপজীব্য করে তাদের ভাষায় ‘জেহাদের ময়দানে’ অবতীর্ণ হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে কঠোরতা অবলম্বনের পাশাপাশি তরুণরা যাতে উগ্রবাদে আকৃষ্ট না হয়, সেজন্য তাদের মোটিভেট বা উদ্বুদ্ধ করতে হবে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে। বিশেষ করে অতিদরিদ্ররা যেহেতু সহজেই উগ্র বা জঙ্গি মতবাদে আকৃষ্ট হয়, সেহেতু এই শ্রেণির মানুষের জন্য জঙ্গিবিরোধী উদ্বুদ্ধকরণ কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। তরুণদের বোঝাতে হবে, বিভিন্ন উগ্রপন্থি সংগঠনের জঙ্গিরা ধ্বংস, খুন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির মাধ্যমে যেভাবে ইসলাম কায়েমের চেষ্টা চালাচ্ছে, তা আসলে ইসলামের পথ নয়। শান্তি ও মানবতার ধর্ম হিসাবে ইসলাম কখনই হত্যা ও ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। জঙ্গিরা সুকৌশলে এদেশের সহজসরল দরিদ্র পরিবারের তরুণ-তরুণীদের অর্থের প্রলোভন ও ধর্মের দোহাই দিয়ে ধ্বংসাত্মক পথে নিয়ে যাচ্ছে। জঙ্গিদের এ তৎপরতা প্রতিরোধ করতে হবে। র‌্যাবের গোয়েন্দা তথ্যে উঠে এসেছে, নিরুদ্দেশ হওয়া ৫৫ জনের মধ্যে ৩৮ জন পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকায় অবস্থান করছে। তারা অস্ত্র পরিচালনাসহ বোমা বিস্ফোরণের প্রশিক্ষণ নিয়েছে। কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর গহিন অরণ্যঘেরা পাহাড়ে জঙ্গি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সন্ধান মিলেছিল। ধারণা করা যায়, জঙ্গিরা দেশের দুর্গম এলাকাগুলোকে আবারও তাদের গোপন তৎপরতার কেন্দ্র হিসাবে বেছে নিয়েছে। সেক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে এসব অঞ্চলে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। জোরদার করতে হবে গোয়েন্দা তৎপরতা।

Post a Comment

0 Comments